Header Ads

Header ADS

পড়ে পাওয়া গল্প- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

কালবৈশাখীর সময়টা, আমাদের ছেলেবেলার কথা। | বিধু, সিধু, নিধু, তিনু, বাদল এবং আরও অনেকে দুপুরের বিকট গরমের পর নদীর ঘাটে নাইতে গিয়েছি। বেলা বেশি নেই।। বিধু আমাদের দলের মধ্যে বয়সে বড়। সে হঠাৎ কান খাড়া করে বললে – ঐ শােন - আমরা কান খাড়া করে শুনবার চেষ্টা করলাম। কিছু শুনতে বা বুজতে না পেরে বললাম – কী রে? | আমদের কথার উত্তর দিলে না।


তখনাে কান খাড়া করে রয়েছে। হঠাৎ আবার সে বলে উঠল - ঐ-ঐ-শােন - আমরও এবার শুনতে পেয়েছি-দূর পশ্চিম-আকাশে ক্ষীণ গুড়গুড় মেঘের আওয়াজ। নিধু তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বললেও কিছু নাবিধু ধমক দিয়ে বলে উঠল—কিছু না মানে? তুই সব বুঝিস কিনা? বৈশাখ মাসে পশ্চিম দিকে ওরকম মেঘ ডাকার মানে তুই কিছু জানিস? ঝড় উঠবে। এখন জলে নামব না। কালবৈশাখী। আমরা সকলে ততক্ষণে বুঝতে পেরেছি ও কী বলছে। কালবৈশাখীর ঝড় মানেই আম কুড়ানাে! বাড়ুয্যেদের মাঠের বাগানে চাপাতলীর আম এ অঞ্চলে বিখ্যাত। মিষ্টি কী! এই সময়ে পাকে।

ঝড় উঠলে তার তলায়। ভিড়ও তেমনি। যে আগে গিয়ে পৌঁছতে পারে তারই জয়। সবাই বললাম- তবে থাক। কিন্তু তখনাে রােদ গাছপালার মাথায় দিব্যি রয়েছে। আমাদের অনেকের মনের সন্দেহ তখনাে দূর হয়। শ। ঝড়-বৃষ্টির লক্ষণ তাে কিছু দেখা যাচ্ছে না; তবে বহু দূরাগত ক্ষীণ মেঘের আওয়াজ শােনা যাচ্ছে। ওরই ক্ষীণ সূত্র ধরে বােকার মতাে চাপাতলীর তলায় যাওয়া কি ঠিক হবে? সেনাদের সকল সংশয় দূর করে দিলে। যেমন সে চিরকাল আমাদের সকল সংশয় দূর করে এসেছে। সে জানিয়ে দিলে যে, সে নিজে এখুনি চাপাতলীর আমতলায় যাচ্ছে, যার ইচ্ছে হবে সে ওর সঙ্গে যেতে পারে।

আর আমাদের সন্দেহ রইল না। আমরা সবাই ওর সঙ্গে চললাম। অলক্ষণ পরেই প্রমাণ হলাে, ও আমাদের চেয়ে কত বিজ। ভীষণ ঝড় উঠল, কালাে মেঘের রাশি উড়ে আলতে। পাগল পাশ্চম থেকে। বড় বড় গাছের মাথা ঝড়ের বেগে লুটিয়ে লুটিয়ে পড়তে লাগল, ধুলােতে চারিদিক। অস্বকার হয়ে গেল, একটু পরেই ঠান্ডা হাওয়া বইল, ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়তে পড়তে বড় বড় করে ভীষণ বাদলের বর্ষা নামল। বড় বড় আমবাগানের তলাগুলি ততক্ষণে ছেলেমেয়েতে পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। আম ঝরছে শিলাবৃষ্টির মতাে; প্রত্যেক ছেলের হাতে এক এক বােঝা আম। আমরাও যথেষ্ট আম কুডুলাম, আমের ভারে নুয়ে পড়লাম এক একজন। ভিজতে ভিজতে কেউ অন্য তলায় চলে গেল, কেউ বাড়ি চলে গেল আমের বােঝা নামিয়ে রেখে আসতে। আমি আর বাদল সন্ধ্যার অন্ধকারে নদীর ধারের পথ দিয়ে বাড়ি ফিরছি।

পথে কেউ কোথাও নেই, ছােট-বড় ডালপালা পড়ে পথ ঢেকে গিয়েছে; পাকা নােনাসুদ্ধ নােনাগাছের ডাল কোথা থেকে উড়ে এসে পড়েছে, কাঁটাওয়ালা সাঁইবাবলার ডালে পথ ভর্তি, কাঁটা ফুটবার ভয়ে আমরা ডিঙিয়ে পথ চলছি আধ-অন্ধকারের মধ্যে। এমন সময় বাদল কী একটা পায়ে বেধে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল। আমায় বললে- দ্যাখ তাে রে জিনিসটা কী? আমি হাতে তুলে দেখলাম একটি টিনের বাক্স, চাবি বন্ধ। এ ধরনের টিনের বাক্সকে পাড়াগাঁ অঞ্চলে বলে, ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স। টাকাকড়ি রাখে পাড়াগাঁয়ে। এ আমরা জানি। বাদল হঠাৎ বড় উত্তেজিত হয়ে পড়ল। বললে-দেখি জিনিসটা?

– দ্যাখ তাে, চিনিস?

– চিনি, ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স।

- টাকাকড়ি থাকে।

– তাও জানি।

- এখন কী করবি?

- সােনার গহনাও থাকতে পারে। ভারী দেখেছিস কেমন?

– তা তাে থাকেই। টাকা গহনা আছেই এতে। টিনের ক্যাশ বাক্স হাতে আমরা দুজনে সেই অন্ধকারে তেঁতুলতলায় বসে পড়লাম। দুজনে এখন কী করা যায় তাই ঠিক করতে হবে এখানে বসে। আম যে প্রিয় বস্তু, এত কষ্ট করে জল ঝড় অগ্রাহ্য করে যা কুড়িয়ে এনেছি, তাও একপাশে অনাদৃত অবস্থায় পড়েই রইল, থলেতে বা দড়ির বােনা গেজেতে। বাদল বললে-কেউ জানে না যে আমরা পেয়েছি – তা তাে বটেই। কে জানবে আর । - এখন কী করা যায় বল।

- বাক্স তাে তালাবন্ধ

- এখুনি ইট দিয়ে ভাঙি যদি বলিস তাে-ও না জানি কত কী আছে রে এর মধ্যে। তই আর আমি দুজনে। নেৰ, আর কেউ না। খুব সন্দেশ খাব।

ঝড়ের ঝাপটা আবার এলাে। আমরা তেঁতুলগাছের গুঁড়িটার আড়ালে গিয়ে আশ্রয় নিলাম। তেঁতুলগাছে ভত আছে সবাই জানে। কিন্তু ভুতের ভয় আমাদের মন থেকে চলে গিয়েছে। অন্য দিনে আমাদের দুজনের সাধ্য ছিল না এ সময় এ গাছতলায় বসে থাকি। বাদল বলল-শীতে কেঁপে মরছি। কী করা যাবে বল। বাড়ি কিন্তু নিয়ে যাওয়া হবে না। তাহলে সবাইকে ভাগ দিতে হবে, সবাই জেনে যাবে। কী করবি?

- আমার মাথায় কিছু আসছে না রে।

– ভাঙি তালা। ইট নিয়ে আসি, তুই থাক এখানে।

- না। তালা ভাঙিসনে। ভাঙলেই তাে গেল। অন্যায় কাজ হয় তালা ভাঙলে, ভেবে দ্যাখ। কোনাে গরিব লােকের হয়তাে। আজ তার কী কষ্ট হচ্ছে, রাতে ঘুম হচ্ছে না। তাকে ফিরিয়ে দেব বাক্সটা। বাদল ভেবে বললে-ফেরত দিবি?

- দেব ভাবছি।

– কী করে জানবি কার বাক্স? – চল, সে মতলব বার করতে হবে। অধর্ম করা হবে না। এক মুহূর্তে দুজনের মনই বদলে গেল। দুজনেই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম। বাক্স ফেরত দেয়ার কথা মনে আসতেই আমাদের অদ্ভুত পরিবর্তন হলাে। বাক্স নিয়ে জল ঝড়ে ভিজে সন্ধ্যার পর অন্ধকারে বাড়ি চলে এলাম। বাদলদের বাড়ির বিচুলিগাদায় লুকিয়ে রাখা হলাে বাক্সটা।। তারপর আমাদের দলের এক গুপ্ত মিটিং বসল বাদলদের ভাঙা নাটমন্দিরের কোণে। বর্ষার দিন-আকাশ মেঘে মেঘাচ্ছন্ন। ঠান্ডা হাওয়া বইছে। জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম। সেই কালবৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টির পরই বাদলা নেমে গিয়েছে। একটা চাপাগাছের ফোটা চাপাফুল থেকে বর্ষার হাওয়ার সঙ্গে মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসছে। ব্যাঙ ডাকছে নরহরি বােষ্টমের ডােবায়। আমাদের দলের সর্দার বিধুর নির্দেশমতাে এ মিটিং বসেছিল। বাক্স ফেরত দিতেই হবে- এ আমাদের প্রথম ও শেষ প্রস্তাব।

মিটিং-এ সে প্রস্তাব পেশ করার আগেই মনে মনে আমরা সবাই সেটি মেনেই নিয়েছিলাম। বিধুকে বলা হলাে বাক্স ফেরত দেয়া সম্বন্ধে আমরা সকলেই একমত, অতএব এখন উপায় ঠাওরাতে হবে বাক্সের মালিককে খুঁজে বের করার। কারও মাথায় কিছু আসে না। এ নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা হলাে। যে কেউ এসে বলতে পারে বাক্স আমার। কী করে আমরা প্রকৃত মালিককে খুঁজে বার করব? মস্ত বড় কথা। কোনাে মীমাংসাই হয় না। অবশেষে বিধু ভেবে ভেবে বললে-মতলব বার করিছি। ঘুড়ির মাপে কাগজ কেটে নিয়ে আয় দিকি।। বলেছি-বিধুর হুকুম অমান্য করার সাধ্য আমাদের নেই। দু-তিনখানা কাগজ ঐ মাপে কেটে ওর সামনে হাজির করা হলাে। বিধু বললে-লেখ-বাদল লিখুক। ওর হাতের লেখা ভালাে। বাদল বলল

—কী লিখব বলাে

- লেখ বড় বড় করে। বড় হাতের লেখার মতাে। বুঝলি?

আমি বলে দিচ্ছি~

বলাে

- আমরা একটা বাক্স কুড়িয়ে পেয়েছি। যার বাক্স তিনি রায়বাড়িতে খোঁজ করুন।

ইতি – বিধু, সিধু, নিধু, তিনু। আমি আর বাদল আপত্তি করে বললাম-বারে, আমরা কড়িয়ে পেলাম, আর আমাদের নাম থাকবে না বুঝি?

আমাদের ভালাে নাম লেখ। বিধু বললে—লিখে দাও। ভালােই তাে। ভালাে নাম সবারই লেখ। তিনখানা কাগজ লিখে নদীর ধারের রাস্তায় ভিন্ন ভিন্ন গাছে বেলের আঠা দিয়ে মেরে দেওয়া হলাে। দু-তিন দিন কেটে গেল। কেউ এল না।। তিন দিন পরে একজন কালােমতাে রােগা লােক আমাদের চণ্ডীমণ্ডপের সামনে এসে দাঁড়াল। আমি তখন সেখানে বসে পড়ছি। বললাম-কী চাও? - বাবু, ইদিরভীষণ কার নাম?

– আমার নাম। কেন? কী চাই? – একটা বাক্স আপনারা কুড়িয়ে পেয়েছেন? আমার নামের বিকৃত উচ্চারণ করাতে আমি চটে গিয়েছি তখন। বিরক্তিভাবে বললাম-কী রকম বাক্স? - কাঠের বাক্স।

- না। যাও।

- বাবু, কাঠের নয়, টিনের বাক্স।

– কী রঙের টিন?

- কালাে। - না। যাও- বাবু দাড়ান, বলছি। মাের ঠিক মনে হচ্ছে না। এই রাঙা মতাে– না, তুমি যাও। লােকটা অপ্রতিভভাবে চলে গেল। বিধুকে খবরটা দিতে সে বললে—ওর নয় রে। লােভে পড়ে এসেছে। ওর মতাে কত লােক আসবে। আবার তিন-চার দিন কেটে গেল। বিধুর কাছে একজন লোেক এলাে তারপরে। তারও বর্ণনা মিলল না; বিধু তাকে বিদায় দিলে পত্রপাঠ। যাবার সময় সে নাকি শাসিয়ে গেল, চৌকিদারকে বলবে, দেখে নেবে আমাদের ইত্যাদি। বিধু তাচ্ছিল্যের সুরে। বললে- যাও যাও, যা পার করাে গিয়ে। বাক্স আমরা কুড়িয়ে পাইনি। যাও।। আর কোনাে লােক আসে না। বর্ষা পড়ে গেল ভীষণ।। সেবার আমাদের নদীতে এলাে ভীষণ বন্যা।

বড় বড় গাছ ভেসে যেতে দেখা গেল নদীর স্রোতে। দু-একটা গরুও আমরা দেখলাম ভেসে যেতে। অম্বরপুর চরের কাপালিরা নিরাশ্রয় হয়ে গেল। নদীর চরে ওদের ছােট ছােট ঘরবাড়ি সেবারেও দেখে এসেছি-কী চমৎকার পটলের আবাদ, কুমড়াের খেত, লাউ-কুমড়াের মাচা ওদের চরে! দু পয়সা আয়ও পেত তরকারি বেচে। কোথায় রইল তাদের পটল-কুমড়াের আবাদ, কোথায় গেল তাদের বাড়িঘর। আমাদের ঘাটের সামনে 3 দিয়ে কত খড়ের চালাঘর ভেসে যেতে দেখলাম। সবাই বলতে লাগল অম্বরপুর চরের কাপালিরা সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছে। একদিন বিকেলে আমাদের চণ্ডীমণ্ডপে একটা লােক এলাে। বাবা বসে হাত-বাক্স সামনে নিয়ে জমাজমির হিসেব দেখছেন। গ্রামের ভাদুই কমাের কয়াে কাটানাের মজুরি চাইতে এসেছে। আরও

দু-একজন প্ৰজা এসেছে খাজনা পত্তর দিতে। আমরা দু ভাই বাবার কড়া শাসনে বইয়ের পাতা ওলটাচ্ছি। | এমন সময় একটা লােক এসে বললে-দণ্ডবৎ হই, ঠাকুরমশায়।

বাবা বললেন–এসাে। কল্যাণ হােক। কোথা থেকে আসা হচ্ছে? - আজ্ঞে অম্বরপুর থেকে। আমরা কাপালি। - বােসাে। কী মনে করে? তামাক খাও। সাজো। লােকটা তামাক সেজে খেতে লাগল। সে এসেছে এ গাঁয়ে চাকরির খোঁজে। বন্যায় নিরাশ্রয় হয়ে নির্বিষখােলার গােয়ালাদের চালাঘরে সপরিবারে আশ্রয় নিয়েছে। এই বর্ষায় না আছে কাপড়, না আছে। ভাত। দু আড়ি ধান ধার দিয়েছিল গােয়ালারা দয়া করে, সেও এবার ফুরিয়ে এলাে। চাকরি না করলে স্ত্রীপুত্র না খেয়ে মরবে।

বাবা বললেন—আজ এখানে দুটি ডাল-ভাত খেও। লােকটি দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললে-তা খাব। খাচ্ছিই তাে আপনাদের। দুরবস্থা যখন শুরু হয় ঠাকুরমশাই, এই গত জষ্টি মাসে নির্বিষখােলার হাট থেকে পটল বেচে ফিরছি; ঘােট মেয়েটার বিয়ে দেব বলে গহনা গড়িয়ে আনছিলাম। প্রায় আড়াই শাে টাকার গহনা আর পটল-বেচা নগদ টাকা পঞ্চাশটি-একটা টিনের বাক্সের ভেতর ছিল। সেটা যে হাটের থেকে ফিরবার পথে গরুর গাড়ি থেকে কোথায় পড়ে গেল, তার আর খোঁজই হলাে না। সেই হলাে শুরু—আর তারপর এলাে এই বন্যেবাবা বললেন-বল কী? অতগুলাে টাকা-গহনা হারালে? -অদেষ্ট, একেই বলে বাবু অদেষ্ট। আজ সেগুলাে হাতে থাকলে আমি কান খাড়া করে শুনছিলাম। বলে উঠলাম—কী রঙের বাক্স? – সবুজ টিনের।

বাবা আমাদের বাক্সের ব্যাপার কিছুই জানেন না। আমায় ধমক দিলেন-তুমি পড়াে না, তােমার সে খোজে কী দরকার? কিন্তু আমি ততক্ষণে বইপত্তর ফেলে উঠে পড়েছি। একেবারে এক ছুটে বিধুর বাড়ি গিয়ে হাজির। বিধু আমার কথা শুনে বললে-দাঁড়া, সিধু আর তিনুকেও নিয়ে আসি। ওরা সাক্ষী থাকবে কি না? বিধুর খুব বুদ্ধি আমাদের মধ্যে। ও বড় হলে উকিল হবে, সবাই বলত। আধঘণ্টার মধ্যে আমাদের চডীমণ্ডপের সামনে বেশ একটি ছােটখাটো ভিড় জমে গেল। বাক্স ফেরত পেয়ে। সে লােকটা যেন কেমন হকচকিয়ে গেল। চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগল। কেবল আমাদের মুখের দিকে চায় আর বলে- ঠাকুরমশাই, আপনারা মানুষ না দেবতা? গরিবের ওপর এত দয়া আপনাদের? বিধু অত সহজে ভুলবার পাত্র নয়। সে বললে-দেখে নাও মাল সব ঠিক আছে কি না আর এই কাকাবাবুর সামনে আমাদের একটা রসিদ লিখে দাও, বঝলে? কাকাবাব আপনি একটু কাগজ দিন না ওকে-লিখতে জান তাে?

No comments

Powered by Blogger.