ব্যক্তিজীবনে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি Information and communication technology in personal life

পথিবীতে কত নতুন নতুন প্রযুক্তির জন্ম হচ্ছে, আমরা হয়তাে তার সত তাই সেগুলাে হয়তাে আমাদের জীবনে কোনাে প্রভাব ফেলতে পারে না। তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি শুধু যে রাষ্ট্রীয় বড় বড় বিষয়ে কিংবা আন্তর্জাতিক জগতে ব্যবহৃত হয় তা নয়একেবারে সাধারণ মানুষের জীবনেও সেটি ব্যবহৃত হয়। তুমি যদি চোখ মেলে চারদিকে তাকাও তুমি দেখবে।


তােমার চারপাশে তােমার পরিচিত মানুষেরা, তােমার আত্মীয়স্বজন, তােমার স্কুলের শিক্ষকরা, তােমার ক্লাসের বন্ধুবান্ধবরা এবং তুমি কোনাে না কোনােভাবে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে।

অন্য একজনের সাথে মােবাইল টেলিফোনে যােগাযােগ করতে পারে। একজন মানুষের জীবনে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির কী কী ব্যবহার হতে পারে তার একটা তালিকা তৈরি । করার চেষ্টা করলে সেটা মনে হয় কোনােদিন শেষ করা যাবে না। কিন্তু একটু চেষ্টা করে দেখলে কেমন। হয়? অন্ততপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা চেষ্টা করে দেখা যাক।


ব্যক্তিগত যােগাযােগ: তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রথম বিনােদনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম । এখন ইচ্ছে করলে অন্য চারপাশের প্রায় সবার কাছেই এখন মােবাইল টেলিফোন রয়েছে যে কেউ এখন ইচ্ছে করলে সাথে মােবাইল টেলিফোনে যােগাযােগ করতে পারে। তােমরা নিশ্চয়ই অনুমান কর দৈনন্দিন জীবনে আমরা প্রতি মুহূর্তে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তিকে ব্যবহার করি। এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আমরা এত অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে অনেক সময় । বিষয়টা আমরা লক্ষ পর্যন্ত করি না!


কম্পিউটার ব্যবহার করে গান শােনা যায়। বন্ধুর জন্মদিন, বিকেলে তার বাসায় জন্মদিনের উৎসব, হাত-মুখ ধুয়ে নাস্তা করতে করতে সে টেলিভিশনে ভােরের খবরটা শুনে নেয়। ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। শুনে তার মনটা ভালাে হয়ে যায়। আবার বঙ্গোপসাগরে। একটা নিম্নচাপ হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের আশংকা দেখা দিয়েছে বলে সাগরের খানিকটা দুশ্চিন্তাও হল নাস্তা করে সাগর তার ল্যাপটপটি নিয়ে বসে, প্রথমেই সে তার ই-মেইলগুলাে দেখে, তার প্রবাসী ভাই তার পরিবারের। একটা ছবি পাঠিয়েছে। ছবিটা ভারি সুন্দর সাগরের মনে। হল সেটা ঘরে টানিয়ে রাখলে মন্দ হয় না। তাই সে প্রিন্টারে সেটা প্রিন্ট করে নিল।


ই-বুক রিডার ব্যবহার করে বই পড়া যায়। ই-মেইলে চিঠিপত্রের উত্তর দিয়ে সে তার প্রিয় কয়েকটা গান বাজাতে শুরু করে দেয়। গান শুনতে শুনতে সে তার ই-বুক রিডারে একটা বই পড়তে শুরু করে। প্রিয় বই পড়তে পড়তে কীভাবে যে সময় কেটে গেল সাগর বুঝতেই পারল না! যখন বইটা শেষ হয়েছে তখন একটু বেলা হয়ে গেছে। হঠাৎ করে তার মনে হলাে বাসায় খাবার নেই। বাজার করা হয়নি। সাগরের হঠাৎ মনে হল ইন্টারনেটে খাবারের অর্ডার দেয়া যায়। তারা বাসায় এসে খাবার পৌঁছে দেয়। সাগর তখনই ইন্টারনেটে তার প্রিয় খাবার পিৎজার অর্ডার দিয়ে দেয়।


কোনাে মানুষের সাথে টেলিফোন যােগাযোগ করতে পারার কারণে আমাদের জীবনের মান এখন অনেক বেড়ে গিয়েছে, অনেক কম পরিশ্রমে আমরা এখন অনেক কিছু করতে পারি যেটা আগে কল্পনাও করতে পারতাম না। বিনােদন তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি দিয়ে আমরা যে শুধু কাজ করতে পারি তা নয়- এটা এখন বিনােদনেরও চমৎকার মাধ্যম হয়ে দাড়িয়েছে। আগে গান শােনার জন্যে মানুষকে আলাদাভাবে কোনাে একটা যন্ত্র কিনতে হতাে।


এখন মােবাইল টেলিফোনেই সে গান শুনতে পারে। একটা সময় ক্যামেরা ছিল শুধু ধনীদের ব্যবহারের বিষয়- এখন সাধারণ মােবাইল টেলিফোন দিয়েই যে কোনাে মানুষ ছবি তুলতে পারে, ভিডিও করতে পারে। মােবাইল টেলিফোন ধীরে ধীরে বুদ্ধিমান একটা যন্ত্র হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এটা দিয়ে অনেক ধরনের কাজ করা যায়। ঠিক সেরকম কম্পিউটারও ছােট হতে শুরু করেছে। ডেস্কটপ থেকে ল্যাপটপ, ল্যাপটপ থেকে নােটবুক, নােটবুক থেকে স্মার্ট ফোন অর্থাৎ আমাদের হাতে এমন একটা যন্ত্র জিপিএস পৃথিবীর যে কোনাে জায়গার চলে আসছে যেটা দিয়ে আমরা অসংখ্য কাজ করতে পারব।


অবস্থান বের করে ফেলতে পারে । জিপিএস: গাড়ি চালিয়ে কোথাও যাওয়ার প্রথম শর্তই হচ্ছে আমাদের পথঘাট চিনতে হবে। কেউ যদি পথঘাট চিনতে না পারে তাহলে সে কেমন করে গন্তব্যে পৌঁছবে। অথচ মজার ব্যাপার হল কোথাও যেতে। হলে এখন কাউকে পথঘাট চিনতে হয় না। তার সাথে একটা জায়গার ম্যাপকে জুড়ে দিতে পারলেই একজন মানুষ যে কোনাে জায়গায় চলে যেতে। পারবে। আজকাল নতুন সব গাড়িতেই জিপিএস লাগিয়ে দেয়া হয়।


কোথায় যেতে হবে সেটি জিপিএস-এ ঢুকিয়ে দিলে জিপিএস গাড়ির ড্রাইভারকে সঠিক পথ বাতলে দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারবে। ১২ মে ২০১৮ বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট মহাকাশে প্রেরণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নামের এই মহাকাশ যানটি যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি মহাকাশ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। নিজস্ব স্যাটেলাইটের । অধিকারী দেশগুলাের মধ্যে বাংলাদেশ পৃথিবীর ৫৭তম দেশ।

Post a Comment

0 Comments