Header Ads

Header ADS

সমাজ জীবনে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি

সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়নে আইসিটি

আমরা সবাই সমাজে থাকি। তুমি, তােমার বন্ধুরা হয়তাে কেউ গ্রাম বা কেউ শহরে থাকো। তােমাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তাে স্কুলের হােস্টেলে থাকো। বাবা, মা, দাদা। দাদী, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং বাকি সবাইকে নিয়ে আমাদের সমাজ। এখানে কেউ চাকরি করে কেউ ব্যবসা করে, কেউ শিক্ষার্থী, কেউবা বাসায় থাকে। সবার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আর দেওয়া। নেওয়ার মধ্য দিয়ে একটি সমাজ এগিয়ে চলে। সমাজের নানা প্রয়ােজনে আমরা নানান ধরনের হাতিয়ার। ব্যবহার করি একসময় যােগাযােগ বলতে এক গ্রাম থেকে আর এক গ্রামে যেতে হতাে খবর দিতে পরে। দেখা গেলাে ঢৌল বাজিয়েও খবর দেয়া যায়। মানুষ যখন লিখতে শিখল তখন সে চিঠি লিখে মনের ভাব আর খবর পাঠাতে শুরু করল। গড়ে উঠল ডাক বিভাগ, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চিঠি পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা। টেলিগ্রাফ আর টেলিফোনের। আবিষ্কার এই ব্যাপারগুলােকে আরও সহজ করে ফেললাে।


আর এখন তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সামাজিক চাহিদা পূরণের ব্যাপারগুলােকে নিয়ে এসেছে হাতের মুঠোয়। আইসিটির প্রচলিত হাতিয়ারগুলাের পাশাপাশি এখন ইন্টারনেটে সামাজিক যােগাযােগের অনেক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছে যা এই সামাজিক কর্মকান্ড সহজভাবে করার সুযােগ করে দিচ্ছে।। আইসিটি ব্যবহার করে কীভাবে সামাজিক সম্পর্কগুলাে বিকশিত হচ্ছে তার কয়েকটি উদাহরণ।

একসময় কেবল কাগজের আমন্ত্রণপত্র এবং টেলিফোনেই কোনাে ই-কার্ড অনেক চমকপ্রদ হতে পারে, কাগজ কালি ব্যবহার। সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য দাওয়াত দেওয়া যেত। হয় না বলে অনেক পরিবেশ বান্ধব। এখন এগুলাের পাশাপাশি ই-মেইল বা মুঠোফোনের খুদেবার্তায় (এসএমএস) দাওয়াত দেওয়া যায়) ইমেইল বা খুদেবার্তার সুবিধা হলাে তা যার কাছে পাঠানাে হচ্ছে ঠিক সে সময়েই তাকে ফোন ব্যবহার করতে হয় না, তার সুবিধামত সময়ে সে দেখে নিতে পারে।

বিশেষ দি সমূহে শুভেচ্ছা বার্তা, তােমার বন্ধুদের জন্মদিন, ঈদ বা পূজার সময় শুভেচ্ছা-বার্তা পাঠাতে চাও। যেসব বন্ধু তােমার আশেপাশে থাকে তাদের কাছে তুমি তােমার হাতে বানানে কার্ড দিতে পারাে। কিন্তু যারা ভিন্ন দেশে বা ভিন্ন দূরত্বে থাকে? তাদের কাছেও কার্ড পাঠানাে যায় ডাকযােগে তবে এখন সবাই পাঠায় ই-কার্ড। ই-কার্ড দুইভাবে পাঠানাে যায়।

প্রাত্যহিক জীবনে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি

ই-কার্ড তৈরি করে সেটি ই-মেইলে পাঠাতে পারাে। flickr আবার ইন্টারনেটে অনেক ই-কার্ডের সাইট আছে যেখান থেকে তুমি তােমার পছন্দের ই-কার্ডটি তােমার প্রিয়জনের কাছে পাঠিয়ে দিতে পারাে। এজন্য সাধারণত কোনাে টাকা-পয়সা খরচ হয় না। তােমার বন্ধু বা প্রিয়জন তাদের ইন্টারনেটের মাধ্যমে তােমার কার্ড পেয়ে যায়।

(আবার শুভেচ্ছা জানানােতেও মুঠোফোনের খুদেবার্জ এখন অনেক জনপ্রিয় ।) এর মাধ্যমে খুব সহজে প্রিয়জনের কাছে শুভেচ্ছা, উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠা পৌছে দেওয়া যায়। এখন আবার বিভিন্ন এফএম রেডিওতে পছন্দের গান বাজিয়েও প্রিয় বন্ধুকে শুভেচ্ছা। জানানাের রেওয়াজ চালু হয়েছে। এসএমএস এর মাধ্যমে শ্রবণ প্রতিবন্ধীরাও ভাববিনিময় করতে পারে। একইভাবে কথাবলা সফটওয়্যার (Talking) এর ছবি সংরক্ষন আর বিতরণের মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরাও কম্পিউটার বা মােবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারে। এসবের মাধ্যমে সামাজিক বন্ধনগুলাে দৃঢ় হয়।

স্মৃতি সংরক্ষণ ও বিনিময় : অনেকদিন আগে থেকে জীবনের রঙিন ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীর ছবি তুলে রাখা এবং তা সবার সঙ্গে বিনিময় (শেয়ার করার একটি কৃতি রয়েছে। যাদের সামর্থ্য আছে তারা তাদের অনুষ্ঠানটি ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করে রাখে। বর্তমানে এমন মােবাইল ফোন সহজলভ্য হয়েছে যেখানে ক্যামেরা এমনকি ভিডিও ক্যামেরাও রয়েছে। তার ফলে জীবনের যে কোনাে মুহূর্ত ইউ টিউবে একটি ভিডিও।

আগামী দিনের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া এধরনের ডিজিটাল ছবি ইচ্ছে করলেই প্রিয়জনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া যায়।

(ইন্টারনেটে এখন বিভিন্ন সাইট রয়েছে যেখানে তুমি ছবি আপলােড করে তা অন্যদের জানাতে পারবে। এরকম সাইটগুলাের মধ্যে গুগলের পিকাসা (picasa.google.com) এবং ইয়াহর ফ্রিকার এখন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। কেবল ছবি নয়, ইচ্ছে করলে তুমি তােমার তােলা ভিডিও সারাবিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পারাে ভিডিও শেয়ারিং | সাইটের মাধ্যমে এরকম সাইটগুলাের মধ্যে ইউটিউব (www.youtube.com) অধিক জনপ্রিয়


সমাজ জীবনে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি

সামাজিক যােগাযােগের সাইট: তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি আমাদের সামাজিক যােগাযােগকে আকর্ষণীয়, এবং কার্যকরী করে তুলেছে। শুধু এ নয়, এর বাইরেও নানানভাবে আমাদের সামাজিক ব্যাপারগুলাে ইন্টারনেটে উঠে এসেছে। আগের পাঠে বলা হয়েছে তােমার বন্ধুকে কোনাে কিছু জানাতে হলে খুদেবার্তা বা ই-মেইল পাঠানাের কাজটি কিন্তু তােমাকে করতে হবে। কিন্তু যদি এমন হয় যে, তুমি যা কিছু করছ তাই তােমার বন্ধুরা জেনে যাচ্ছে, আলাদা করে তােমার কিছুই করতে হচ্ছে না তাহলে কেমন হয়? নিশ্চয়ই খুবই ভালাে হয়। এই চিন্তা থেকে facebook এখন ইন্টারনেটে গড়ে উঠেছে বেশকিছু সামাজিক যােগাযােগের সমপূর্ণ সাইট। নিজের ভালােলাগা মন্দলাগা, অনুষ্ঠানাদি, চাকরিতে প্রমােশন, সন্তানাদির বিয়ে ইত্যাদি নানা বিষয়ের তথ্য, ছবি কিংবা ভিডিও বিনিময় করা যায় এগুলাের যে কোনাে একটি থেকে। বর্তমানে প্রায় শতাধিক এরকম ওয়েবসাইট রয়েছে।

এগুলাের মধ্যে ফেসবুক (www.facebook.com), লিংকড-ইন (Linkedin.com) টুইটার (www.twitter.com), 1997 (www.zooppa.com), মাইপেস (www.myspace.com) এগুলাে খুবই জনপ্রিয়। পৃথিবীর প্রায় সকল ভাষাভাষী লােক এই সাইটগুলাে ব্যবহার করে। পৃথিবীর কোটিকোটি লােক ফেসবুক ব্যবহার করে।

এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ফেসবুক। পৃথিবীর কোটি কোটি লােক এখন ফেসবুকের ব্যবহারকারী। বাংলাদেশেও ফেসবুকের ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। ফেসবুক বা অনুরূপ সাইটগুলােতে প্রত্যেক ব্যবহারকারী তার পরিচিতিমূলক একটি বিশেষায়িত ওয়েবপেইজ চালু করতে পারেন। এটিকে বলা হয় ব্যবহারকারীর প্রােফাইল।

ব্যবহারকারী তার নিজের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য, তার ভালােলাগা মন্দলাগা ইত্যাদি বিষয়গুলাে তার প্রােফাইলে প্রকাশ করে। এরপর একজন তার প্রােফাইল থেকে ফেসবুকে তার ‘বন্ধু’দের খুঁজে বের করে। এখানে বন্ধু বলতে আমরা প্রচলিতভাবে যেটা বােঝাই সেটা বােঝানাে হচ্ছে না, ফেসবুক অনুযায়ী একজন মানুষের সঙ্গে অন্য যত মানুষের যােগাযােগ থাকবে তারা সবাই হচ্ছে তার ‘বন্ধু’। যদি তােমার বন্ধুটিরও ফেসবুকে প্রােফাইল থাকে তাহলে তুমি তাকে খুঁজে নিয়ে বন্ধু হওয়ার জন্য অনুরােধ পাঠাতে পারাে। যদি সে সম্মতি দেয় তাহলে তােমরা বন্ধু হয়ে যাবে। একইভাবে অন্য কেউ যদি তােমাকে বন্ধু হওয়ার অনুরােধ করে আর তা তুমি গ্রহণ করাে তাহলে তুমিও তার বন্ধু হবে। তুমি আর তােমার বন্ধুরা মিলে হবে তােমার নেটওয়ার্ক বা তােমার সামাজিক নেটওয়ার্ক।

No comments

Powered by Blogger.