Header Ads

Header ADS

কর্মক্ষেত্রে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি Information and communication technology in the workplace part-2

ভার্চুয়াল অফিসে যেহেতু কাউকে সশরীরে থাকতে হয় না তাই তারা যেখানে ইচ্ছে সেখানে থাকতে পারে। কাজেই এক অফিসের একেকজন হয়তাে একেক শহরে থাকে। সত্যি কথা বলতে কী অনেক অফিসেই কিন্তু এভাবে কাজ করে। পৃথিবীটা যেহেতু তার অক্ষের উপর ঘুরে তাই এক পৃষ্ঠে যখন দিন তখন পৃথিবীর অন্য পৃষ্ঠে রাত। দিনের বেলা হয়তাে একদল অফিস করে ঘুমাতে গেল, তখন পৃথিবীর অন্য পৃষ্ঠের অন্য দল ঘুম থেকে উঠে কাজ শুরু করে দিল! যার অর্থ অফিসটা চব্বিশ ঘন্টা চলছে। আজকাল কল সেন্টার বলে প্রায়ই একটা কথা অনেক তরুণ তরুণ অকল অফিসে গিয়ে দশটা পাচটা কাজ না শােনা যায়- আমাদের দেশেও কল সেন্টার করে - তার নিজের ঘরে বসে স্বাধীনভাবে যখন ইচ্ছে কাজ করে।। বসানাের কাজ চলছে।


নানা ধরনের কল সেন্টার থাকতে পারে- তারা নানা ধরনের কাজ করে। একটা সহজ উদাহরণ হতে পারে, সেটি কোনাে একটা কোম্পানির কাছে যারা নানা কিছু জানতে ফোন করে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেয়া। ধরা যাক কেউ একটা কম্পিউটার কিনেছে- সেই কম্পিউটারটা নিয়ে তার একটা সমস্যা হয়েছে তাই সে কম্পিউটারের কোম্পানীতে ফোন করল। সে হয়তাে ভাবছে তার ফোনের উত্তর দিচ্ছে আশপাশের কোনাে একজন মানুষ আসলে সেই ফোনটি হয়তাে চলে এসেছে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে কোনাে একটি কল সেন্টারে। সেখানে যারা আছে তারা এই প্রশ্নের উত্তরটা খুব ভালাে করে জানে কারণ তাদের কাছে আগে হয়তাে আরাে অনেক মানুষ এই প্রশ্নটি করেছে।

তাই খুব সহজেই কল সেন্টার থেকে উত্তর দিয়ে সেই মানুষটিকে খুশি করে দিল। অফিসে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে কাজ করার চেয়ে তার নিজের ঘরে বসে স্বাধীনভাবে যখন ইচ্ছে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বােধ করে। তাদের কাজের ক্ষেত্রটি তখন আর নিজের শহর কিংবা নিজের দেশের মাঝে আটকে থাকে না, তখন সেটা হয়ে যায় সারা পৃথিবী। তারা শুধু যে কাজ করে আনন্দ পায় তা নয়- অনেক টাকা উপার্জন করতে পরে। এত কিছুর জন্যে তার দরকার শুধু একটা কম্পিউটার আর ইন্টারনেটের সংযােগ। অবশ্যই তার সাথে আরাে একটা জিনিস দরকার সেটা হচ্ছে প্রােগ্রামিংয়ে দক্ষতা! কাজেই তােমরা বুঝতেই পারছ নতুন পৃথিবীতে একসাথে মিলে অনেকে কাজ করতে হলে তাদেরকে আর এ জায়গায় বসে কাজ করতে হয় না। এই যে বইটা তুমি পড়ছ- তুমি কি জান যারা এই বইটা লিখেছে, জয়েছে তারা কেউ কখনাে একসাথে বসে নি- সবাই নিজের ঘরে বসে কাজ করেছে।

তােমরা নিশ্চয়ই জান বাংলাদেশ এখন বিশাল বিশাল জাহাজ তৈরি করে পৃথিবীর বড় বড় দেশে রপ্তানি করে। আমাদের এত সুন্দর দেশটির ভেতর দিয়ে বিশাল বিশাল নদী গিয়েছে এই দেশের মানুষ নদী বিল সমুদ্রে বড় হয়েছে। কাজেই তারা যে চমৎকার নৌকা আর জাহাজ বানাতে পারবে তাতে অবাক হবার কী আছে?

বড় বড় জাহাজ বানাতে হলে বিশাল বিশাল ধাতব । টুকরােকে নির্দিষ্ট আকারে কেটে তারপর ওয়েল্ডিং করতে হয়। তােমরা নিশ্চয়ই পথেঘাটে দোকানে ওয়েল্ডিং করতে দেখেছ। সেখান থেকে যে তীব্র আলাে বের হয় কেউ যদি সােজাসুজি সেদিকে তাকায় তাহলে তার চোখ পাকাপাকিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে। যারা ওয়েল্ডিং করে তাদের বিশেষ চশমা পরে কাজ করতে হয়। সেখানে প্রচন্ড তাপের সৃষ্টি হয়, ধাতব টুকরাে ছিটকে ছিটকে পড়ে। কাজটি দেখেই মনে হয় এটি বেশ বিপজ্জনক কাজ। এই বিপজ্জনক কাজটি যদি মানুষকে

করতে না হতাে, কোনাে একটা রােবট করতাে তাহলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রােবট দিয়ে আজকাল বিপজ্জনক কেমন হতাে? যান্ত্রিক কাজ করা হয় । তােমরা শুনে খুশি হবে- এধরনের বিপজ্জনক কাজগুলাে আসলেই আস্তে আস্তে মানুষ নিজে না করে রােবটদের দায়িত্ব দিয়ে দিচ্ছে। মানুষেরা কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায়- একঘেয়ে কাজ হলে কাজ করতে ইচ্ছেও করে না। রােটরা ক্লান্ত হয় না। একঘেয়ে কাজটি নিয়ে তারা কখনাে অভিযােগও করে না। তাই পৃথিবীর বড় বড় কলকারখানায় শ্রমিক হিসেবে আর মানুষ নেই। কাজ করে রােবটরা। মানুষেরা বড় ড্রাইভার ছাড়াই এই গাড়ী চালানাে যায়। জোর দেখে কাজটা ঠিক মতাে হচ্ছে কি না!

একঘেয়ে বিপজ্জনক কাজগুলাে মানুষ থেকে রােবটেরা অনেক ভালােভাবে করতে পারে। কাজেই যত দিন। যাচ্ছে ততই এই কাজগুলাে মানুষের বদলে মেশিনেরা করছেতথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে।


আমাদের পথে ঘাটে প্রতিদিন কত একসিডেন্ট হয়- মােটামুটি অনুমান করা যায় আর কয়েক দশক পর একসিডেন্ট বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ তখন গাড়ি আর মানুষেরা চালাবে না। গাড়ি চালাবে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা যন্ত্র। গাড়ির বেলায় সেটা শুরু হতে একটু দেরি হচ্ছে- আকাশ পথে সেটা কিন্তু এর মাঝে শুরু হয়ে গেছে। বিশাল বিশাল প্লেন যখন আকাশে উড়ে তখন পাইলটদের কিছু করতে হয় নাকম্পিউটারই সবকিছু করে। যুদ্ধবিমান যেগুলাে আছে সেখানে আজকাল পাইলট থাকেই না, পাইলটবিহীন। ড্রোনরা যে প্রতিদিন যুদ্ধ করছে বােমা ফেলছে সেটা তাে খবরের কাগজ খুললেই দেখা যায়। আমাদের কাজের ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি কেমন করে ব্যবহার হয় তার তালিকা করতে গেলে। সেটি শেষ হবে বলে মনে হয় না। দাপ্তরিক চিঠিপত্র যােগাযােগের কথা তাে আগেই বলা হয়েছে অফিসের মিটিংগুলােও আজকাল অন্যভাবে হয়। বিভিন্ন অফিসের বিভিন্ন মানুষ। আলাদাভাবে বসে একসাথে কনফারেন্স করে। ফেলে! আমাদের দেশেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ই

কোনাে পাইলট ছাড়াই এই প্লেনটি আকাশে উড়ে। ক্লাসরুম তৈরি হচ্ছে, একজন শিক্ষক তার । ক্লাসরুমে পড়াবেন, সারা দেশের অসংখ্য মানুষ তার কাছে পড়বে। অফিসের ব্যবস্থাপনা তথ্য প্রযুক্তি ছাড়া। কল্পনাই করা যায় না। আগে অফিসে বড় বড় ফাইল এক ঘর থেকে অন্য অফিসে যেতে দিন পার হয়ে। যেতাে- নতুন ইলেকট্রনিক ফাইল চোখের পলকে এক অফিস থেকে অন্য ঘরে চলে যেতে পারে।

অফিসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলাে হয় টাকা দলগত কাজ রােবট দিয়ে করাতে চাও এমন কতগুলাে পয়সা বা একাউন্টিং সংক্রান্ত, তথ্য প্রযুক্তির কারণে কাজের তালিকা তৈরি কর।

সেই কাজগুলাে এখন আর মানুষকে করতে হয় না বড় বড় লেজার খাতায় মাথা গুজে কিছু লিখতে হয় না, কম্পিউটার মুহূর্তে সবকিছু করে ফেলে। মানুষের কাজের জায়গায় সবসময়েই কাউকে না কাউকে কিছু একটা বলতে হয়, বােঝাতে হয়, সেমিনার পতে হয়। এসব কাজের জন্যে এত চমৎকার ব্যবস্থা বের হয়েছে, এত সুন্দর করে সবকিছু করে ফেলা। যায় যে মাঝে মাঝে মনে হয় আগে এই কাজগুলাে কেমন করে করা হতাে?

No comments

Powered by Blogger.