আইসিটি’র বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সম্পর্কে

আইসিটি’র বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সম্পর্কে 

ষষ্ঠ শ্রেণিতে তােমরা আইসিটি’র বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সম্পর্কে জেনেছ। এ পাঠে আইসিটি যন্ত্রপাতি সম্পর্কে। তােমরা আরও বিস্তারিত জানতে পারবে। সময়ের সাথে এ যন্ত্রপাতিগুলাে ক্রমেই আরও আধুনিক হয়ে উঠছে। বিষয়টা এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, আজকের সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্রটিই আগামীকাল পরানাে হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া নতুন নতুন আবিষ্কার তাে আছেই। টেলিভিশনের রিমােট কন্ট্রোল যন্ত্রটির কথাই ধরাে – আগামীতে এমন টেলিভিশন পাওয়া যাবে। যেটা মুখের কথাতেই চলবে। শুনে অবাক হলে! কথা বলেই এখন ইনপুট দেওয়া সম্ভব। রিমােট কন্ট্রোল যন্ত্রটি হয়তাে এতে অচল হয়ে পড়বে। প্রযুক্তি খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তােমরা যারা এখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে তারা একটু উপরের শ্রেণিতে যেতে যেতেই এই যন্ত্রপাতির অনেকগুলােই যাদুঘরের সামগ্রীতে। পিরণত হবে। তবুও বর্তমানে প্রচলিত যন্ত্রপাতি সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে। কারণ যন্ত্রপাতি পাল্টে গেলেও ইনপুট, স্টোরেজ, প্রসেসিং এবং আউটপুটের ধারণাটা কিন্তু পাল্টে যাচ্ছে না।



কী বাের্ড (Keyboard): কম্পিউটারে ইনপুট দেওয়ার প্রধান (বহুল ব্যবহৃত) যন্ত্র হলাে কী বাের্ড। তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির অধিকাংশ যন্ত্রে সাধারণত কী বাের্ডের মাধ্যমে ইনপুট দেওয়া হয়। এ সকল যন্ত্রকে দিয়ে কোনাে কাজ করাতে চাইলে যন্ত্রগুলােকে কিছু নির্দেশনা দিতে হয়। আমরা যখন কী বাের্ডের বােতাম চেপে যন্ত্রগুলােকে এ নির্দেশনাগুলাে দেই। তখন যন্ত্রগুলাে আমাদের চাওয়া অনুযায়ী কাজটি করে দেয়।

আজকের দিনের আধুনিক কম্পিউটার কী বাের্ডের ধারণা এসেছে টাইপরাইটার নামের এক ধরনের যন্ত্র থেকে। সাধারণত কী বাের্ডে বর্ণ, সংখ্যা বা বিশেষ কিছু চিহ্ন সারিবদ্ধভাবে বিন্যস্ত থাকে। কম্পিউটারের কী বাের্ড টাইপ রাইটারের কী বাের্ডের মতাে হলেও বিশেষ কাজের জন্য কিছু অতিরিক কী থাকে। কী বাের্ড সাধারণত ইংরেজি ভাষায় হলেও অন্যান্য ভাষার কী বাের্ডও পাওয়া যায়। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার সকল মােবাইল ফোনের কী বাের্ডে বাংলা লেআউট যুক্ত করার এক নির্দেশনা জারি করেছে।


মাউল Mouse): তােমরা এর মধ্যে নিশ্চয়ই মাউস নামের একটি যন্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে। এটি একটি জনপ্রিয় ইনপুট ডিভাইস। একে অনেকে পয়েন্টিং ডিভাইসও বলে থাকে। যারা প্রথম এটি তৈরি করেছে তাদের ধারণা ছিল এটি দেখতে ইদুরের মতাে, তাই এর নাম | দেয়া হয়েছে মাউস। মাউসে সাধারণত দুটি বাটন ও একটি স্ক্রল চক্র (হুইল) থাকে। কম্পিউটারে ইনপুট দিতে এ বাটনগুলাে বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমান পৃথিবীতে অনেক ধরনের মাউস প্রচলিত আছে।


সাধারণ মাউস ব্যবহারকারীগণ স্ট্যান্ডার্ড মাউস ব্যবহার করে। কম্পিউটারের মনিটরের পর্দায় মাউসের অবস্থান দেখানাে হয় তীরের ফলার মতাে একটি পয়েন্টারের মাধ্যমে। মাউসটি নড়াচড়া করা হলে পয়েন্টারটি অবস্থান পরিবর্তন করে। মাউসের বাটন ক্লিক করে কম্পিউটারকে বিভিন্ন নির্দেশ প্রদান করা হয়। চিত্রভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমে মাউসের বহুল ব্যবহার লক্ষ করা যায়। সাধারণত নির্দিষ্ট প্রােগ্রামের চিহ্নের (আইকনের) উপর মাউসের বামদিকের বাটন একবার ক্লিক করলে প্রােগ্রামটি নির্বাচিত (সিলেক্ট) হয় এবং পরপর দ্রুত দুবার ক্লিক করলে প্রােগ্রামটি চালু হয়। ল্যাপটপ কম্পিউটারের টাচপ্যাড দিয়ে মাউসের কাজ সম্পাদন করা যায়।


(Microphone): এটিও একটি ইনপুট যন্ত্র। আমাদের কথা, গান বা যে কোনাে ধরনের শব্দ এর মাধ্যমে কম্পিউটারে প্রবেশ করানাে যায়। বিশেষ করে ইন্টারনেটভিত্তিক যােগাযােগে কথা বলার ক্ষেত্রে এর জনপ্রিয়তা লক্ষ করা যায়। টেলিফোনে ব্যবহার করা হয় বলে এ যন্ত্রটির আবিষ্কার বেশ আগেই মাইক্রোফোন হয়েছে। তবে এখন এটাকে নিয়মিতভাবে কম্পিউটারে ইনপুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কথা বলা ছাড়াও ভয়েস রিকগনিশনের ক্ষেত্রে। মাইক্রোফোন ব্যবহার করা হয়ে থাকে।


ডিজিটাল ক্যামেরা (Digital Camera):

আমাদের খুবই পরিচিত একটি যন্ত্র হচ্ছে ক্যামেরা। এসময়ে খুব জনপ্রিয় হলাে ডিজিটাল ক্যামেরা। ডিজিটাল ক্যামেরার প্রচলন অনেক আগে থেকে শুরু হলেও কম্পিউটারের ইনপুট যন্ত্র হিসেবে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে অনেক পরে। প্রথম দিকে গবেষণার কাজে বিশেষ করে মহাকাশ গবেষণায় ডিজিটাল ক্যামেরা কম্পিউটারের ইনপুট যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। বর্তমানে প্রায় সকল প্রকার ডিজিটাল ক্যামেরাই কম্পিউটারের ইনপুট যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়।


ওয়েব ক্যাম (Web Cam):

ওয়েব ক্যাম বা ওয়েব ক্যামেরা ডিজিটাল ক্যামেরারই একটি বিশেষ রূপ। এটি হার্ডওয়্যার হিসেবে কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকে। সাধারণত ল্যাপটপ কম্পিউটারে ওয়েব ক্যামেরা সংযুক্ত থাকে। ওয়েব ক্যামেরার মাধ্যমে স্থির চিত্র বা ভিডিও চিত্র কম্পিউটারে ইনপুট হিসেবে প্রবেশ করানাে যায়। ওয়েব ক্যামেরা ব্যবহার করে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কম্পিউটার ওয়েব ক্যাম বা ওয়েব ক্যামেরা ব্যবহারকারীরা নিজেদের মধ্যে সরাসরি ছবি বা ভিডিও আদান প্রদান করতে পারে। সামাজিক ওয়েব সাইটগুলােতে পারস্পরিক আলাপচারিতায় ওয়েব ক্যাম ব্যবহৃত হয়। ভিডিও কনফারেন্স বা ভিডিও ফোনে ওয়েব ক্যামের ব্যবহার সর্বাধিক। এ ক্যামেরার ব্যাপক ব্যবহারের কারণেই এর নাম হয়েছে ওয়েব ক্যাম বর্তমানে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গুরত্বপূর্ণ স্থাপনা। থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়িতে নিরাপত্তার প্রয়ােজনে এ ক্যামেরা। ব্যবহার করা হয়। এ ক্যামেরার সাথে সরাসরি কম্পিউটারের সংযােগ থাকে। ফলে এ ক্যামেরা সার্বক্ষণিক ভিডিও চিত্র কম্পিউটারে প্রেরণ করে এবং তা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে সে | ভিডিওচিত্র দেখে অপরাধী শনাক্ত করা সম্ভব হয়। আমাদের দেশেও অপরাধ দমনে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা। হচ্ছে।


Scanner: একসময় ফটোকপি মেশিনের সাহায্যে আমরা বিভিন্ন ডকুমেন্টের প্রতিলিপি (কপি) করতাম। কিন্তু এ প্রতিলিপি যতবার দরকার ততবারই মেশিন ব্যবহার করতে হতাে। তথ্যটি সংরক্ষিত থাকত না। এ সমস্যাটির সমাধান যে যন্ত্রটি করে দিয়েছে তার নাম স্ক্যানার। যে কোনাে প্রকার ছবি, মুদ্রিত বা হাতে লেখা কোনাে ডকুমেন্ট অথবা কোনাে বস্তুর ডিজিটাল প্রতিলিপি তৈরি করার যন্ত্রের নাম স্ক্যানার। এ ডিজিটাল প্রতিলিপি বিভিন্ন প্রকারের তথ্য ফাইল আকারে কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা যায়।


ওএমআর (OMR):

ওএমআর বা অপটিক্যাল মার্ক রিডার (Optical Mark Reader) এটিও একটি ইনপুট ডিভাইস। আলাের প্রতিফলন বিচার করে এটি। বিভিন্ন ধরনের তথ্য বুঝতে পারে। ওএমআরের কাজের ধরন অনেকটা স্ক্যানারের মতাে। বিশেষভাবে। তৈরি করা কিছু দাগ বা চিহ্ন ওএমআর পড়তে পারে। বর্তমানে এটি অনেকের কাছেই খুব পরিচিত। বিশেষ করে বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তরপত্র যাচাইয়ে এটির। ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। সঠিক উত্তরের বৃত্তটির অবস্থান কম্পিউটারকে আগে থেকেই জানিয়ে রাখা হয়। শিক্ষার্থীরা সঠিক বৃত্ত ভরাট করলে নম্বর পেয়ে যায়। অন্যথায় নম্বর পাওয়া যায় না। সঠিকটিসহ একের। অধিক বৃত্ত ভরাট করলেও নম্বর পাওয়া যায় না। এর মাধ্যমে কম সময়ে অনেক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা। যায়। এছাড়া মূল্যায়নে ভুল বা পক্ষপাতিত্ব হওয়ার কোনাে সম্ভাবনাই নেই। তাই এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

Post a Comment

0 Comments